বুধবার, ১৯ জুন ২০২৪, ০৭:৪০ পূর্বাহ্ন

“যেপাকে তাকাইমেন খালি ভুট্টার ভুঁই দেকমেন” -রংপুরের কৃষক

  • প্রকাশিত : বুধবার, ১ মার্চ, ২০২৩

স্থানীয় প্রতিনিধি 

তোফায়েল আহমেদ

রংপুর সদর উপজেলা ও বদরগঞ্জ উপজেলায় গত ৫০-৫৫ বছর ধরে আখের চাষ ছিল বহুল জনপ্রিয়। কিন্তু সম্প্রতি ৩-৪ বছর ধরে শ্যামপুর চিনিকল লিমিটেড বন্ধ হওয়ায় কৃষকরা লাভের আশায় ভুট্টা চাষে ঝুঁকছেন।

উপজেলার অপেক্ষাকৃত উঁচু জমিগুলোতে আগাম জাতের ভুট্টা লাগানো হয়েছে। চাহিদার সাথে বাজার মূল্য বেশি এবং অধিক লাভের আশায় কৃষকরা এবার বোরো ধানের জমিতেও আগাম জাতের ও অধিক ফলনশীল পুষ্টিসমৃদ্ধ দানাদার জাতীয় ভুট্টা চাষ করছেন কৃষক।

উপজেলা কৃষি অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, অন্যান্য ফসলের তুলনায় অধিক লাভজনক হওয়ায় ভুট্টা চাষে ঝুঁকছেন কৃষকরা। ভুট্টা চাষে দরিদ্র কৃষকেরা আর্থিকভাবে সফল হয়ে সামনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছেন। এবার ১৫-১৬টি জাতের ভুট্টার চাষ হয়েছে। ভুট্টার চাষে অনুকূল আবহাওয়া ও আধুনিক কৃষি প্রযুক্তিতে কৃষকদের আগ্রহ সৃষ্টি হওয়ার মূল কারণ। স্বল্প খরচে যথাসময়ে কৃষকদের এবার ভুট্টার ভাল ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে। চলতি বছরে এ পর্যন্ত দুই উপজেলায় ১৬ হাজার ২০০ হেক্টর জমিতে ভুট্টা চাষ হয়েছে। যা গত বছরের চেয়ে ৯৭৬ হেক্টর।

সরেজমিনে দেখা যায়, এলাকায় মাঠের পর মাঠ ভুট্টাক্ষেত। সবুজ রঙের গাছগুলো দেখলেই চোখ জুড়িয়ে যায়। ক্ষেতগুলোতে পানি ও কীটনাশক দেওয়া এবং পরিচর্যায় কৃষকেরা ব্যস্ত সময় পার করছেন। ক্ষেতগুলোতে পুরুষের পাশাপাশি নারী শ্রমিকদেরও উপস্থিতি লক্ষণীয়।

রংপুর সদর উপজেলার চন্দনপাঠ  ইউনিয়নের ঈশ্বরপুর গ্রামের কৃষক মোঃ মেহেরাজ হোসেন বলেন, “আমি দুই একর জমিতে ভুট্টা চাষ করেছি।  প্রতি একরে প্রায় ৩৫ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে প্রতি একরে ৯০ হাজার থেকে ১,০০,০০০ লক্ষ টাকার ভুট্টা বিক্রি হবে। এতে একর প্রতি ৪৫ হাজার টাকার মতো লাভ হবে। অন্যান্য ফসলের চেয়ে দ্বিগুণ লাভ হওয়ায় দিন দিন ভুট্টার চাষ বাড়ছে।”

একই ইউনিয়নের অপর কৃষক আজাদ মিয়া বলেন, “গত ২০-২৫ বছর আগত, হামার এত্তি খালি কুশার আর কুশার আবাদ হছিল। কুশারের মেলটা (শ্যামপুর চিনিকল) বন্ধ হওয়ায় এখন খালি যেপাকে তাকাইমেন সেইপাকে খালি ভুট্টা আর ভুট্টার ভুঁই দেইকপার পাইমেন। আর ভুট্টা আবাদের জন্নে হামার ভাগ্যও বদলি গেইছে। মুই নিজেও এ বছর ৬ বিঘা ভুইয়োত ভুট্টা গারছুং।”

কথা হয় আবুল হোসেন নামে একজনের সঙ্গে। তিনি জানান, “যেভাবে সার, কীটনাশকের দাম বেড়েছে, তাতে ভালো দাম না পাওয়া গেলে বেশি লাভ করা যাবে না। তবে গত কয়েকদিনের বিরূপ আবহাওয়া কাটিয়ে বাম্পার ফলনের আশা করছেন সকল কৃষক”

উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মোছাঃ মাহফুজা আক্তার বানু বলেন, “আশা করছি এবছরও ভুট্টার ভালো ফলন হবে। এলাকার কৃষকেরা যাতে ভুট্টা যথাযথভাবে উৎপাদন করতে পারেন সে সম্পর্কে সকল সহায়তা করা হচ্ছে। স্বল্প খরচে উচ্চফলনশীল ভুট্টা উৎপাদনে কৃষকদের পরামর্শও দেওয়া হচ্ছে।”

উপজেলা কৃষি অফিসার আফজাল হোসেন বলেন, “ভূট্টা একটি লাভজনক ফসল। তাছাড়া কম সময়ে অধিক লাভ হওয়ায় কৃষকরা ভুট্টা চাষে আগ্রহী হচ্ছেন। তবে ভুট্টার ক্ষতিকর বালাই “ফল আর্মি ওয়ার্ম” সম্পর্কে কৃষকদের সচেতন থাকতে হবে। ভুট্টার পোল্ট্রি ফিড ব্যতীত এর বহুমুখী ব্যবহারে এগিয়ে আসতে হবে, তাহলেই এই ফসলটির স্থায়িত্ব এবং চাষাবাদ অনেকাংশে বেড়ে যাবে।”

সংবাদটি শেয়ার করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

সম্পর্কিত সংবাদ
© ২০২৪ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | রংপুর নিউজ ৩৬৫
ডিজাইন ও কারিগরী সহায়তায় আতিক