বুধবার, ১৯ জুন ২০২৪, ০৬:২৫ পূর্বাহ্ন

‘ভাড়া দেতে লাব শ্যাষ’ তৈরি হলো না গঙ্গাচড়ায় ব্রিজ

  • প্রকাশিত : সোমবার, ৩০ জানুয়ারি, ২০২৩
রংপুরের গঙ্গাচড়ার আলবিদিতর ইউনিয়নের ডাঙিপাইকান গ্রামের পাশে ঘাঘট নদীর ওপরে স্বাধীনতার ৫৩ বছরে ব্রিজ হয়নি। ইউনিয়নের সাধারন মানুষ বাঁশের সাঁকো তৈরি করে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে

স্থানীয় প্রতিনিধি 

তোফায়েল আহমেদ 

রংপুরের গঙ্গাচড়ার আলবিদিতর ইউনিয়নের ডাঙিপাইকান গ্রামের পাশে ঘাঘট নদীর ওপরে স্বাধীনতার ৫৩ বছরে ব্রিজ হয়নি। ইউনিয়নের সাধারন মানুষ বাঁশের সাঁকো তৈরি করে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে। ডাঙিপাইকান, সয়রাবাড়ি,  নগরবরাইবাড়ি ও কুটিরপাড়া—এই চার গ্রামে প্রায় ২০ হাজার লোকের বসবাস। প্রতিদিন শিক্ষা, চিকিৎসা বাজার-সদাই করা সহ বিভিন্ন প্রয়োজনে গ্রামগুলো থেকে হাজার-হাজার মানুষ আসেন গঙ্গাচড়া উপজেলা সদরে। এতে প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি হয়ে আছে ঘাঘট নদী।

শুকনা মৌসুমের সময় এলাকার লোকজন নিজেরা ওই ঘাঘট নদীর ওপরে বাঁশের সাঁকো বানিয়ে অতি কষ্টে চলাচল করেন। কিন্তু বর্ষাকালে মানুষের চলাচলে খুব কষ্ট হয়। আর তাই চলাচলের একমাত্র ভরসা হিসেবে বেচে নেয় ‘নৌকা’। তখন কষ্টের সীমা ছাড়িয়ে যায়। অনেকে জীবনের নিরাপত্তা, নির্বিঘ্নে চলাচল ও সময় অপচয়ের চিন্তা করে ওই নদ এড়িয়ে অতিরিক্ত ১৫ কিলোমিটার ঘুরে গঙ্গাচড়া উপজেলা সদরে যাওয়া–আসা করেন। স্বাধীনতার পর থেকে সেখানে সেতু নির্মাণের জন্য গ্রামগুলোর সকল মানুষ দাবি জানিয়ে এলেও আজ অবধি তা এখনও পূরণ হয়নি।

রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার আলবিদিতর ইউনিয়নের। ডাঙিপাইকান, সয়রাবাড়ি,  নগরবরাইবাড়ি ও কুটিরপাড়া—এই চার গ্রামের এলাবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ডাঙিপাইকান গ্রামের পাশে ওই নদীর উপরে একটি সেতু হলে উপজেলার বড়বিল মন্থনা হয়ে সরাসরি উপজেলা সদরে আসা-যাওয়া করা যাবে। এতে করে গ্রামগুলো থেকে উপজেলা সদরের দূরত্ব হবে মাত্র ১০ কিলোমিটার। কিন্তু নদীর কারণে তাঁদের বেতগাড়ি বাজার হয়ে ৩০ কিলোমিটার ঘুরে গঙ্গাচড়া উপজেলা সদরে যেতে হয়।

আলবিদিতর ইউনিয়নের চার গ্রামের মানুষের কাছে গিয়ে জানা যায়, সেখানকার বেশিরভাগ মানুষের জীবন-জীবিকা কৃষিনির্ভর। ঘাঘট নদীর উপর সেতু না থাকায় উৎপাদন করা কৃষি পণ্য সহজে উপজেলা সদরে এনে বিক্রি করতে পারেনা। আবার কেউ অসুস্থ হলে নদী পারাপার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসতে অনেক বড় সমস্যায় পড়তে হয়। সেই সাথে স্কুল কলেজের শিক্ষার্থীরাও ভুগছেন একই সমস্যায়।

আলবিদিতর ইউনিয়নের কুটিপাড়া গ্রামের কৃষক ইদ্রিস আলী বলেন, ‘স্বাধীনতার পর থাকি শুনি আইসোচি নদীত ব্রিজ হইবে। কিন্তু বয়স শ্যাষ হয়া আইলো, ব্রিজটা হইলো না।’

অত্র ইউনিয়নের সয়রাবাড়ি গ্রামের কৃষকরা বলেন, ‘নদীটাত ব্রিজ না থাকায় আবাদের ধান–আলু উপজেলার বাজারোত বেচপার নিয়া যাওয়া খুব কষ্ট। ৩০ কিলোমিটার ঘুরিয়া যাবার নাগে। ভাড়া দেতে লাভ শ্যাষ।’

সেই সাথে কলেজ শিক্ষার্থী সুরভী আক্তার গঙ্গাচড়া ডিগ্রি কলেজে পড়াশোনা করেন। তিনি বলেন, ‘বর্ষাকালে ৩০ কিলোমিটার ঘুরে কলেজে যেতে সমস্যায় পড়তে হয়। এতে আমাদের পড়াশোনার প্রতি খারাপ প্রভাব পড়ে। অনেক শিক্ষার্থী পড়াশোনা বন্ধও করে দেয় যাতায়াতের সমস্যার কারণে।

তাই তাদের একটাই প্রানের দাবি আলবিদিতর ইউনিয়নের ডাঙিপাইকান গ্রামের পাশে ঘাঘট নদীর উপরে যেন একটি ব্রিজ হয়।

গঙ্গাচড়া উপজেলা প্রকৌশলী জানান, ‘ডাঙিপাইকান গ্রামের পাশে ঘাঘট নদীর ওপর সেতু নির্মাণের জন্য সয়েল টেস্ট (মাটি পরীক্ষা) করে একটি প্রতিবেদন সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানো হয়েছে। আলবিদিতর ইউনিয়নের ডাঙিপাইকান গ্রামের পাশে ঘাঘট নদীর ওপরে ব্রিজ করার চেষ্টা চলছে।’

সংবাদটি শেয়ার করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

সম্পর্কিত সংবাদ
© ২০২৪ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | রংপুর নিউজ ৩৬৫
ডিজাইন ও কারিগরী সহায়তায় আতিক