বুধবার, ১৯ জুন ২০২৪, ০৭:৫৬ পূর্বাহ্ন

মিঠাপুকুরে কোভিড-১৯ টিকা কেন্দ্রে উপেক্ষিত স্বাস্থ্যবিধি

  • প্রকাশিত : বুধবার, ১২ জানুয়ারি, ২০২২

নিজস্ব প্রতিনিধি 

 

 

সারাদেশের ন্যায় রংপর জেলার মিঠাপুকুর উপজেলায় শুরু হয়েছে স্কুল শিক্ষার্থীদের কোভিড-১৯ টিকাদান কর্মসূচি।মিঠাপুকুর উপজেলা ডাক বাংলোতে চলছে টিকাদান কর্মসূচি।
১১ জানুয়ারি ২০২২ (মঙ্গলবার) মিঠাপুকুর ডাক বাংলোতে গিয়ে দেখা যায় টিকা দেয়ার জন্য উপজেলা ডাক বাংলোতে এসেছে অসংখ্য শিক্ষার্থী।একজনের থেকে আরেকজনের মধ্যে ছিলো না কোন সামাজিক দূরত্ব।অনেক শিক্ষার্থীকেই মুখের বদলে গলায় মাস্ক ঝুলাতে দেখা যায়। সকাল ৯ টায় টিকাদান কর্মসূচি শুরু হওয়ার কথা থাকলেও কেন্দ্রে যথা সময়ে ভ্যাক্সিন না আসায় ১০.৩০ মিনিটে শুরু হয় ভ্যাক্সিন কার্যক্রম।দুপুর ১.৪০ এর দিকে ভ্যাক্সিন এর মজুদ শেষ হয়।তখনো লাইনে গাদাগাদি করে দাড়িয়ে ছিলো অসংখ্য শিক্ষার্থী।দীর্ঘ এক ঘন্টা পর  ভ্যাক্সিনের সরবরাহ আসায় আবারো টিকাদান কার্যক্রম শুরু হয়।
ভ্যাক্সিন নিতে আসা শিক্ষার্থী মারুফ হোসেন অভিযোগ করেন, আমরা ঘন্টার পর ঘন্টা লাইনে দাড়িয়ে অপেক্ষা করতেছি।কিন্তু কিছু  শিক্ষার্থী বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতেছে।এ ব্যাপারে শৃঙ্খলায় নিয়োজিত ব্যক্তিদের বারবার বলার পরেও কোন পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে না।এছাড়াও সামাজিক দূরত্ব না মানার কারনে ক্ষোভ প্রকাশ করেন এ শিক্ষার্থী।
শৃঙ্খলার দায়িত্বে নিয়োজিত রেড ক্রিসেন্টের স্বেচ্ছাসেবক নাসিম বলেন, আমরা শৃঙ্খলা রক্ষা করার চেষ্টা করছি।স্বাস্থ্যবিধি মতো কাজ করতেছি।কিন্তু শিক্ষার্থীদের সংখ্যাধিক্যের চাপে স্বাস্থ্যবিধি  উপেক্ষিত হচ্ছে ।
ভ্যাক্সিন কেন্দ্রে আসা শালমারা উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক শাহাজাহান ইসলাম বলেন,মাইকিং করে শিক্ষার্থীদের কোভিড-১৯ টিকা কেন্দ্রে আসার কথা জানিয়ে দেয়া হয়েছে। শিক্ষার্থীরা নিজে যে যার মতো টিকা কেন্দ্রে এসেছে।আমরা শিক্ষকেরা এসেছি নিজ স্কুলের শিক্ষার্থীদের তত্ত্বাবধান করে টিকা দেয়ার জন্য।
অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের অভিযোগ এভাবে স্বাস্থ্যবিধি উপেক্ষা করে ও সামাজিক দূরত্ব না মেনে টিকাদান কর্মসূচি চলতে থাকলে করোনা প্রতিরোধের চেয়ে করোনা সংক্রমিত হবে বেশি।
এ ব্যাপারে উক্ত কেন্দ্রের দায়িত্বে থাকা মিঠাপুকুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের  MT(EPI) আনিসুর রহমান বলেন, ১৫ তারিখের মধ্যে ১২ থেকে ১৮ বছর বয়সী মিঠাপুকুর উপজেলার ৩৮০০০ মাধ্যমিক শিক্ষার্থীকে টিকা দেয়ার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।উপজেলা ডাক বাংলো কেন্দ্রে মাত্র দুইটি এসি রুম।প্রতিদিন এ দুইটি রুমে দুই হাজারের বেশি শিক্ষার্থীকে টিকা দেয়া হয়।সামাজিক দূরত্ব ও যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি মেনে টিকাদান কর্মসূচি পরিচালনা করতে গেলে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে টিকাদান কর্মসূচি সম্পন্ন করা সম্ভব নয়।এজন্য আমরা স্বাস্থ্যবিধি কে গুরুত্ব না দিয়ে জেলা প্রশাসক অফিসের নির্দেশনা মোতাবেক শুধুমাত্র কোভিড-১৯ ভ্যাক্সিনেশন ক্যাম্প চালিয়ে যাচ্ছি।
উল্লেখ্য গত ৫ জানুয়ারি ২০২২ মিঠাপুকুর উপজেলার ডাক বাংলোতে স্কুল শিক্ষার্থীদের  কোভিড-১৯ টিকাদান কর্মসূচির উদ্বোধন করেন মিঠাপুকুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার ফাতেমাতুজ জোহরা।এ পর্যায়ের টিকাদান কর্মসূচি চলবে ১৫ জানুয়ারি ২০২২ পর্যন্ত।

 

সংবাদটি শেয়ার করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

সম্পর্কিত সংবাদ
© ২০২৪ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | রংপুর নিউজ ৩৬৫
ডিজাইন ও কারিগরী সহায়তায় আতিক